নাজিরপুরের ভাসমান সবজি বাগান
Floating vegetable gardens of Nazirpur
পচা কচুরিপানার লম্বা ভেলা, ওপরে মাটি। বর্ষার মাসগুলোতে নাজিরপুরের কৃষকেরা এর ওপরেই চারা আর সবজি ফলান।
ভিডিওতে দেখুন জায়গাটা
নাজিরপুরের নিচু বিল মাসের পর মাস পানির নিচে থাকে। তখন কৃষকেরা কচুরিপানা স্তরে স্তরে সাজিয়ে, বাঁশ আর কলাগাছ দিয়ে বেঁধে, ওপরে মাটি ফেলে লম্বা ভাসমান বেড বানান। এলাকায় এর নাম ধাপ বা বাইরা। এর ওপর লাউ, বেগুন, পেঁপে, মরিচ, ফুলকপিসহ নানা সবজির চারা হয়, পরে বিক্রি হয় বৈঠাকাটার মতো হাটে। বৈঠাকাটায় বেলুয়া নদীর ওপর কয়েক যুগ ধরে ভাসমান সবজির হাট বসে। এখানে এখনো কয়েক শ পরিবার এভাবে চাষ করে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এই পদ্ধতিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। মৌসুমে পানির ওপর সবুজ ভেলা সারি দিয়ে ভাসে, আর বারান্দায় বসে নারীরা চারার জন্য ছোট ছোট মাটির দলা বাঁধেন। বাইরের লোক খুব কমই দেখতে আসে।
কীভাবে যাবেন
পিরোজপুর থেকে সড়কপথে নাজিরপুর হয়ে মালিখালী ইউনিয়নের বৈঠাকাটা (মুগারঝোর)। সেখানে ছোট নৌকা ভাড়া নিয়ে বেডগুলোর ফাঁকে ঘুরে দেখুন।
জেনে রাখুন
মে মাসের মাঝামাঝি থেকে বেড বানানো শুরু হয়, চলে পুরো বর্ষা। শনি আর মঙ্গলবার বৈঠাকাটার ভাসমান হাটের দিন মিলিয়ে গেলে ভালো। বেডের কাছে যাওয়ার আগে কৃষকদের জিজ্ঞেস করে নিন, পারলে কিছু চারা বা সবজি কিনে আনুন।
