
কুড়িগ্রাম Kurigram
যেখানে ব্রহ্মপুত্র ঢোকে, চর আর ভাওয়াইয়ার দেশ
দেশের একেবারে উত্তরের কোণে কুড়িগ্রাম। ভারত থেকে ব্রহ্মপুত্র এখান দিয়েই বাংলাদেশে ঢোকে, সঙ্গে এসে মেশে তিস্তা, ধরলা আর দুধকুমার। নদী এখানে চর গড়ে, আবার ভেঙে নিয়ে যায়। ঘাটে ঘাটে দেশি নৌকা, আর বাতাসে ভেসে আসে ভাওয়াইয়ার টান। উত্তরের এই গানে মন কেমন করা একটা সুর আছে।
- ব্রহ্মপুত্র আর তার চর
- চিলমারী বন্দর
- ভাওয়াইয়া গান
- ধরলা নদী
- সোনাহাট
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা ধরলা সেতু ও নদীর পাড়
Dharla Bridge and Riverfrontকুড়িগ্রাম শহরের পাশে ধরলার চওড়া বাঁক। সেতুর মুখ থেকে সূর্যাস্ত দেখতে সবচেয়ে ভালো লাগে।
ঘোরার জায়গা চিলমারী বন্দর
Chilmari River Portব্রহ্মপুত্রের পুরোনো নদীবন্দর, ভাওয়াইয়া গানে যার নাম অমর হয়ে আছে। এখান থেকে চরে যাওয়ার নৌকা ছাড়ে।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা সোনাহাট সেতু
Sonahat Bridgeদুধকুমার নদীর ওপর ব্রিটিশ আমলের পুরোনো রেলসেতু, সোনাহাট স্থলবন্দরের কাছে।
ঘোরার জায়গা উলিপুর মুন্সিবাড়ি
Ulipur Munshibariউলিপুরে উনিশ শতকের আশির দশকের কারুকাজ করা জমিদারবাড়ি। কুড়িগ্রামের সবচেয়ে পরিচিত পুরোনো দালান।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা চান্দামারী মসজিদ
Chandamari Mosqueরাজারহাটে মোগল আমলের তিন গম্বুজ মসজিদ। ছাদ ঘিরে ছোট ছোট গম্বুজ, সামনে বড় পুকুর।
ঘোরার জায়গা কোটেশ্বর শিব মন্দির
Kotheshwar Shiva Templeরাজারহাটের পুরোনো শিবমন্দির। প্রতিষ্ঠা ১৪৮৩ সালে, নতুন করে গড়া ১৮৯৭ সালে। শিবরাত্রির রাতে লোকে লোকারণ্য।
খাবার
প্রতীকী ছবি খাবার কুড়িগ্রামের নদীর মাছ
Korti and River Fishব্রহ্মপুত্র আর ধরলার কর্তির মতো ছোট নদীর মাছ, টাটকা রাঁধা।
প্রতীকী ছবি খাবার চরের ভুট্টা
Roasted Corn from the Charsনদীর বালুচরে ফলানো ভুট্টা, কয়লার আগুনে পুড়িয়ে লবণ‑মরিচ মাখানো।
খাবার চরচম
Charchom (Buffalo-Milk Chomchom)মহিষের দুধের ছানায় বানানো ঘন চমচম। কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্রের চর ছাড়া আর কোথাও মেলে না।
খাবার উলিপুরের ক্ষীরমোহন
Ulipur Khirmohonঘন রসে ডোবানো ভারী ছানার মিষ্টি। উলিপুরে বানানো হচ্ছে পঞ্চাশের দশক থেকে।
খাবার ঝন্টু মিষ্টান্ন ভান্ডারের মিষ্টি
Sweets of Jhontu Mistanna Bhandar১৯৩৯ সাল থেকে চলা কুড়িগ্রামের টিনের চালার দোকানের চমচম, রসমঞ্জুরি আর ছানার সন্দেশ।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳৬০০–১,৫০০
- ভালো হোটেল
- ৳১,৫০০–৩,০০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- তথ্য নেই
এই জেলার দামের সীমাটা আশপাশের জেলা দেখে আনুমানিক ধরা। নিচে কোনো হোটেলের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
দামগুলো কোথা থেকে
আনুমানিক: কুড়িগ্রামের হোটেল ভাড়ার নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি; কুষ্টিয়া (৫০০–২,০০০), মেহেরপুর (৫০০–২,০০০), নওগাঁর (৫০০–৩,০০০) মতো ছোট জেলা শহরের পাওয়া দাম দেখে ধরা।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলার খাওয়ার খরচ আশপাশের জেলার দাম দেখে আন্দাজ করা। নিচে কোনো রেস্টুরেন্টের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৭০০–২,১৫০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (২টি)
- ঝন্টু মিষ্টান্ন ভান্ডার কালীবাড়ি এলাকা, কুড়িগ্রাম শহর
- চমচম · ৳২০/পিস
- ছানার সন্দেশ · ৳৪০/পিস
- ক্ষীরমোহন · ৳৫০/পিস
- রসমঞ্জুরি, চমচম বা গোল মিষ্টি · ৳২৮০/কেজি
সাধারণ হোটেল ২০২৩ সালের দাম · সূত্র - জোড়গাছ হাটের চমচম বিক্রেতা জোড়গাছ হাট, চিলমারী, কুড়িগ্রাম
- চমচম · ৳২১০/কেজি
সাধারণ হোটেল ২০২৩ সালের দাম · সূত্র
চেখে দেখুন
- কুড়িগ্রামের নদীর মাছ কুড়িগ্রাম শহর আর চিলমারীর স্থানীয় হোটেলে, আর সকালের মাছবাজারে
- চরের ভুট্টা কুড়িগ্রাম শহরে আর নদীর ঘাটের কাছে রাস্তার ধারের বিক্রেতাদের কাছে একটা ভুট্টা মোটামুটি ২০–৪০ টাকা
- চরচম ব্রহ্মপুত্রের চরের সাপ্তাহিক হাটে, যেমন চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ হাটে কেজি প্রায় ২০০–২২০ টাকা
- উলিপুরের ক্ষীরমোহন পাবনা ভাগ্যলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, উলিপুর উপজেলা সদর, কুড়িগ্রাম
- ঝন্টু মিষ্টান্ন ভান্ডারের মিষ্টি ঝন্টু মিষ্টান্ন ভান্ডার, কালীবাড়ি এলাকা, কুড়িগ্রাম শহর চমচম প্রতিটি প্রায় ২০ টাকা, সন্দেশ বা ক্ষীরমোহন ৪০–৫০ টাকা (২০২৩ সালের হিসাবে)
দামগুলো কোথা থেকে
তথ্য কম: কুড়িগ্রামে শুধু মিষ্টির দাম পাওয়া গেছে (২০২৩)। খাবারের খরচ ধরা হয়েছে উত্তরবঙ্গের ২০২৪-২৫ সালের পাওয়া দাম থেকে, যেমন গাইবান্ধার কাছে ভাত-গরুর মাংস-ভর্তার পুরো প্লেট ১৩০ টাকা, রাজশাহীতে কালাভুনা দিয়ে খাওয়া ১০০-১৫০ টাকা, নওগাঁয় বিরিয়ানি ১৮০-২০০ টাকা।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।



