
রংপুর Rangpur
জমিদারবাড়ি, রোকেয়ার গ্রাম আর হাতে বোনা শতরঞ্জি
রংপুর উত্তরের সবচেয়ে বড় শহর। সাদা ধবধবে তাজহাট জমিদারবাড়ি, নিসবেতগঞ্জের হাতে বোনা শতরঞ্জি আর হাড়িভাঙ্গা আম, রংপুরের নাম এগুলোর জন্যই। শহরের দক্ষিণে পায়রাবন্দ গ্রাম। এখানেই জন্মেছিলেন বাংলায় মেয়েদের লেখাপড়ার পথ খুলে দেওয়া বেগম রোকেয়া।
এক নজরে
- ঢাকা থেকে
- সড়কপথে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, বাসে বা গাড়িতে মোটামুটি ৮–১০ ঘণ্টা
- খরচ
- থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি দিনে ৮০০–৪,২৫০ টাকা (আনুমানিক)
- যাওয়ার সেরা সময়
- নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি, তখন দিনগুলো ঠান্ডা আর শুকনো
- ঘোরার জায়গা
- ৯টা, যেমন তাজহাট জমিদারবাড়ি, কারমাইকেল কলেজ আর বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, পায়রাবন্দ
সময় আর খরচ আমাদের প্ল্যানার আর সংগ্রহ করা দামের হিসাব। যাওয়ার আগে একবার মিলিয়ে নিন।
- তাজহাট জমিদারবাড়ি
- শতরঞ্জি বুনন
- হাড়িভাঙ্গা আম
- বেগম রোকেয়া
- ভাওয়াইয়া গান
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা তাজহাট জমিদারবাড়ি
Tajhat Palaceঝকঝকে সাদা জমিদারবাড়ি, ভেতরে মার্বেলের বিশাল সিঁড়ি। এখন এটা রংপুর জাদুঘর।
ঘোরার জায়গা কারমাইকেল কলেজ
Carmichael Collegeএকশো বছরের পুরোনো কলেজ। গম্বুজওয়ালা লম্বা মূল ভবন, আর বিশাল সবুজ ক্যাম্পাস।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, পায়রাবন্দ
Begum Rokeya Memorial, Pairabandবেগম রোকেয়ার জন্মভিটা। লেখক রোকেয়া, যিনি বাংলার মুসলমান মেয়েদের লেখাপড়ার পথ দেখিয়েছিলেন।
ঘোরার জায়গা ভিন্ন জগৎ
Bhinno Jagatরংপুরের সবচেয়ে বড় বিনোদন পার্ক। রাইড, প্ল্যানেটোরিয়াম, লেক আর গাছপালার মাঝে রেস্ট হাউস।
প্রতীকী ছবি ঘোরার জায়গা চিকলি বিল
Chikli Beelরংপুর শহরের উত্তর পাশে পুরোনো বিল। এখন লেকঘেঁষা পার্ক, নৌকা আর ফোয়ারা আছে, শীতে আসে অতিথি পাখি।
ঘোরার জায়গা রংপুর চিড়িয়াখানা
Rangpur Zooউত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা। রংপুর শহরের মাঝখানে গাছপালায় ছাওয়া প্রায় ২১ একর জায়গা।
খাবার
খাবার হাড়িভাঙ্গা আম
Haribhanga Mangoরংপুরের নিজের আম। গোলগাল, আঁশ নেই, মিষ্টি। আঁটি পাতলা, শাঁস অনেক।
খাবার সিদল
Shidolছোট মাছ আর কচুর ডাঁটা দিয়ে বানানো কড়া গন্ধের সিদল। বৃহত্তর রংপুরের মানুষের প্রাণের খাবার।
খাবার শিঙাড়া হাউসের শিঙাড়া
Shingara House Shingara১৯৬০ সাল থেকে চলা রংপুরের ছোট্ট এক দোকানের মচমচে, ছোট ছোট শিঙাড়া।
প্রতীকী ছবি খাবার শোলকা
Sholkaতেল‑মসলা ছাড়া, এক চিমটি সোডা দিয়ে পাটশাক আর অন্য শাকের পাতলা তরকারি। বৃহত্তর রংপুরের ঘরের খাবার।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳৮০০–২,০০০
- ভালো হোটেল
- ৳৪,৫০০–৭,০০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- তথ্য নেই
এই জেলার দামের সীমাটা আশপাশের জেলা দেখে আনুমানিক ধরা। নিচে কোনো হোটেলের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
হোটেলের নাম ও দাম (১টি)
- পর্যটন মোটেল রংপুর আর কে রোড, রংপুর
দামগুলো কোথা থেকে
মাঝারি দাম পর্যটন মোটেল রংপুর-এর ২০২৬ সালের অনলাইন ভাড়া থেকে; শহরের সাধারণ আবাসিক হোটেলের ভাড়া আনুমানিক।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলার খাওয়ার খরচ আশপাশের জেলার দাম দেখে আন্দাজ করা। নিচে কোনো রেস্টুরেন্টের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৮০০–৪,২৫০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (১টি)
- শিঙাড়া হাউস জাহাজ কোম্পানি মোড়, শ্রী শ্রী করুণাময়ী কালীবাড়ির পাশে, রংপুর শহর
- তেঁতুলের চাটনিসহ ছোট শিঙাড়া · ৳৫/পিস
সাধারণ হোটেল ২০২৩ সালের দাম · সূত্র
চেখে দেখুন
- হাড়িভাঙ্গা আম জুন–জুলাইয়ে মিঠাপুকুর আর রংপুর শহরের আমের হাটে মৌসুমে কেজিপ্রতি মোটামুটি ৬০–১৫০ টাকা
- সিদল রংপুর শহরের ঘরোয়া খাবারের হোটেলে আর বাজারে। এলাকার কোনো পরিবারকে জিজ্ঞেস করলে ভালো খোঁজ পাবেন
- শিঙাড়া হাউসের শিঙাড়া শিঙাড়া হাউস, জাহাজ কোম্পানি মোড়, শ্রী শ্রী করুণাময়ী কালীবাড়ির পাশে, রংপুর শহর প্রতিটি প্রায় ৫ টাকা (২০২৩ সালের হিসাবে)
- শোলকা রংপুর শহর আর আশপাশের গ্রামের বাড়িতে আর ছোট ভাতের হোটেলে। এটা মূলত ঘরের খাবার, তাই নাম ধরে জিজ্ঞেস করুন
দামগুলো কোথা থেকে
তথ্য কম: রংপুর শহরের হোটেলের প্লেটের দাম সূত্রে পাওয়া যায়নি; উত্তরবঙ্গের ২০২৪-২৫ সালের দাম ধরে হিসাব করা হয়েছে। নাশতার দাম মিলিয়ে দেখা হয়েছে ২০২৬ সালের রংপুরের রাস্তার দামের সঙ্গে (আধা লিটার হালিম ৭০-৮০ টাকা, চিকেন গ্রিল ১২০ টাকা, এক গ্লাস মাঠা ২০ টাকা) আর শিঙাড়া হাউসের ৫ টাকার শিঙাড়ার সঙ্গে।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।
এই জেলার হাতের কাজ বা খাবার পাবেন আমাদের দোকানে।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
রংপুর গেলে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?
রংপুরের নামকরা জায়গার মধ্যে আছে তাজহাট জমিদারবাড়ি, কারমাইকেল কলেজ, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, পায়রাবন্দ, মিঠাপুকুর মসজিদ আর ভিন্ন জগৎ। আমাদের গাইডে রংপুরের মোট ৯টা ঘোরার জায়গার খোঁজ আছে, প্রতিটায় কীভাবে যাবেন আর কখন যাবেন সেটাও লেখা।
ঢাকা থেকে রংপুর যেতে কত সময় লাগে?
সড়কপথে ঢাকা থেকে রংপুর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। বাসে বা গাড়িতে মোটামুটি ৮–১০ ঘণ্টা লাগে, পথে জ্যাম কেমন তার ওপর অনেকটা নির্ভর করে।
রংপুর ঘুরতে খরচ কেমন?
সাধারণ হোটেলে এক রাতের রুম ভাড়া ৮০০–২,০০০ টাকা, ভালো হোটেলে ৪,৫০০–৭,০০০ টাকা। দুজনে এক রুমে থাকলে থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি দিনে মোটামুটি ৮০০–৪,২৫০ টাকা পড়ে। ঢাকা থেকে যাওয়া‑আসার ভাড়া এর বাইরে। দামগুলো আনুমানিক।
রংপুর যাওয়ার সেরা সময় কখন?
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি, তখন দিনগুলো ঠান্ডা আর শুকনো।
রংপুর গিয়ে কী খাবেন?
রংপুরের খাবারের মধ্যে চেখে দেখুন হাড়িভাঙ্গা আম, সিদল, শিঙাড়া হাউসের শিঙাড়া আর শোলকা। কোনটা কোথায় পাবেন, তা প্রতিটার পাতায় লেখা আছে।



