ExploreBangladesh
English
ছবি: Abdul Momin · CC BY-SA 4.0

সিলেট মেঘালয়ের পাহাড়ের ঠিক নিচে। ভারতের পাহাড় থেকে স্বচ্ছ পানির নদী নেমে আসে পাথরের ওপর দিয়ে। শহর থেকে বেশি দূরে যেতে হয় না, হাতের কাছেই পানিতে ডোবা জলাবন, পান্নাসবুজ নদী আর টিলার পর টিলা চা বাগান। শহরটাও তীর্থের শহর। হযরত শাহজালালের মাজারে সারা দিনই মানুষের আনাগোনা।

কীসের জন্য বিখ্যাত
  • রাতারগুল জলাবন
  • জাফলং
  • চা বাগান
  • শাহজালালের মাজার
  • সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস

ঘোরার জায়গা

রাতারগুল জলাবন ঘোরার জায়গা

রাতারগুল জলাবন

Ratargul Swamp Forest

মিঠাপানির জলাবন। সবুজ, চুপচাপ পানিতে অর্ধেক ডোবা গাছের ফাঁক দিয়ে নৌকায় ভেসে বেড়াবেন।

জাফলং ঘোরার জায়গা

জাফলং

Jaflong

মেঘালয়ের পাহাড়ের নিচে নুড়িপাথরের ওপর দিয়ে স্বচ্ছ পানি বয়ে যায়। সীমান্তের ওপারে ঝুলন্ত সেতু।

বিছনাকান্দি ঘোরার জায়গা

বিছনাকান্দি

Bichanakandi

বড় বড় পাথর বিছানো চওড়া জায়গা। পাহাড়ের ঠান্ডা ছড়ার পানি এখানে ছড়িয়ে অগভীর স্বচ্ছ নদী হয়ে গেছে।

লালাখাল ঘোরার জায়গা

লালাখাল

Lalakhal

অবাক করা নীলচে‑সবুজ পানির নদী, চা বাগান আর বনঢাকা পাহাড়ের পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে চলেছে।

হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার ঘোরার জায়গা

হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার

Shrine of Shah Jalal

সিলেটের সবচেয়ে শ্রদ্ধার সুফি সাধকের মাজার। সারা দিন ভক্ত, দোয়া‑দরুদ আর গজার মাছের পুকুর ঘিরে ভিড়।

মালনীছড়া চা বাগান ঘোরার জায়গা

মালনীছড়া চা বাগান

Malnicherra Tea Estate

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো বাণিজ্যিক চা বাগানগুলোর একটা। শহরের একেবারে গা ঘেঁষে টিলাভরা সবুজ।

সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ ঘোরার জায়গা

সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ

Sada Pathor, Bholaganj

মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ধলাই নদী নেমে এসেছে সাদা পাথরের বিছানার ওপর দিয়ে। ভোলাগঞ্জ থেকে নৌকায় যেতে হয়।

শাহ পরাণের মাজার ঘোরার জায়গা

শাহ পরাণের মাজার

Shrine of Shah Paran

হযরত শাহজালালের ভাগ্নে ও সঙ্গী শাহ পরাণের মাজার, টিলার ওপরে। সিলেটে জিয়ারতের দ্বিতীয় বড় ঠিকানা।

কীন ব্রিজ ঘোরার জায়গা

কীন ব্রিজ

Keane Bridge

সুরমার ওপর সিলেটের পুরোনো লোহার সেতু। পাশেই আলী আমজাদের ঘড়িঘর, শহরের সবচেয়ে চেনা ছবি।

খাবার

সাতকরা গরুর মাংস খাবার

সাতকরা গরুর মাংস

Shatkora Beef

সাতকরা দিয়ে ধীরে ধীরে রাঁধা গরুর মাংস। তিতকুটে‑সুগন্ধি এই ফল প্রায় শুধু সিলেটেই মেলে।

সিলেটি আখনি খাবার

সিলেটি আখনি

Sylheti Akhni

মাংস আর মসলায় রাঁধা সুগন্ধি ভাত। সিলেটি বাড়িতে উৎসব মানেই আখনি।

হিদল ভর্তা ও নাগা মরিচ খাবার

হিদল ভর্তা ও নাগা মরিচ

Hidol Bhorta with Naga Chilli

গাঁজানো মাছের ঝাঁঝালো ভর্তা, সঙ্গে সিলেটের নাগা মরিচ। সিলেটি খাবার কেমন হলো, অনেকে এটা দিয়েই বিচার করেন।

সিলেটি ঘরোয়া ভাত-ভর্তা খাবার

সিলেটি ঘরোয়া ভাত-ভর্তা

Sylheti Home-Style Rice Meal

ভাত, ডাল, ফ্রি আলু ভর্তা আর সিলেটি মাছ‑মাংসের তরকারি। জিন্দাবাজারের ব্যস্ত ঘরোয়া রেস্তোরাঁয় চটজলদি পাতে আসে।

জারা ও শাশনি লেবু খাবার

জারা ও শাশনি লেবু

Jara and Shashni Citrus

বিশাল সুগন্ধি জারা লেবু আর এলাচের গন্ধওয়ালা শাশনি লেবু। সিলেটিরা খোসাসহ খান।

অচেনা জায়গা

ঐতিহ্য

২০২৬ সালের দাম রুমপ্রতি এক রাতের ভাড়া
সাধারণ হোটেল
৳১,০০০–২,৫০০
ভালো হোটেল
৳২,৮০০–৬,০০০
অভিজাত রিসোর্ট
৳৮,০০০–২০,০০০

ভিড়ের সময়: শীতকাল, বর্ষা (ঝরনা আর হাওর দেখতে) আর ঈদ-পূজার ছুটিতে বেশির ভাগ হোটেল ভরে যায়; রোজার মাসে বড় হোটেলগুলো ৫০% পর্যন্ত ছাড় দিয়েছিল।

হোটেলের নাম ও দাম (২টি)
এই জেলার ৪টি হোটেলের রুম ধরে ভাড়া দেখুন →
দামগুলো কোথা থেকে

মাঝারি দাম পর্যটন মোটেল সিলেট আর মোটেল জাফলংয়ের ২০২৬ সালের ভাড়া থেকে; দামি রিসোর্টের দাম প্রথম আলোর মে ২০২৬ সালের প্রতিবেদন থেকে (পাঁচ তারকা রিসোর্টের সাধারণ রুম ৮–২০ হাজার টাকার বেশি, বুটিক রিসোর্ট ৬–১১.৫ হাজার)। দরগা গেটের আশপাশের আবাসিক হোটেলের ভাড়া আনুমানিক।

দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।

কোথায় খাবেন, খরচ কত

২০২৬ সালের দাম জনপ্রতি দিনে খাওয়ার খরচ
সাধারণ হোটেল ৳৪৬০
নাশতা ৳৭০দুপুর ৳১৬০রাত ৳১৭০চা‑নাশতা ৳৬০
ভালো রেস্টুরেন্ট ৳৯০০
নাশতা ৳১৫০দুপুর ৳৩০০রাত ৳৩৩০চা‑নাশতা ৳১২০
অভিজাত ৳৪,২০০
নাশতা ৳৮০০দুপুর ৳১,৫০০রাত ৳১,৬০০চা‑নাশতা ৳৩০০

এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৯৫০–৩,৯০০

কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।

রেস্টুরেন্ট আর খাবারের দাম (৪টি)
  • বিয়াই রেস্টুরেন্ট সোনাটিলা, তামাবিল, সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে
    • হাঁসের মাংস (ভাত, ডাল, সালাদ ফ্রি) · ৳৩০০/বাটি
    • ছোট মাছের মিশালি তরকারি · ৳১৫০/বাটি
    • গরুর মাংস · ৳২০০/বাটি
    • দেশি মুরগি · ৳২৫০/বাটি
    ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৬ সালের দাম · সূত্র
  • কাচ্চি ভাই সিলেট শহর শাখা
    • বাসমতি কাচ্চি · ৳৩৩০/প্লেট
    • স্পেশাল খাসির তেহারি · ৳২৭০/প্লেট
    • সাদা পোলাও, মুরগির রোস্ট আর বোরহানি · ৳৩২০/প্লেট
    • বোরহানি · ৳৮০/গ্লাস
    ভালো রেস্টুরেন্ট ২০২৬ সালের দাম · সূত্র
  • পার্ল অব ওরিয়েন্ট শাহজালাল উপশহর মোড়, সিলেট শহর
    • রাতের বুফে · ৳১,৫৭৩/প্লেট
    অভিজাত ২০২৪ সালের দাম · সূত্র
  • সিগনেচার রেস্টুরেন্ট বাদশালা, খাদিমনগর, বিমানবন্দরের কাছে
    • সকালের বুফে · ৳১,৫৮১/প্লেট
    • রাতের বুফে · ৳৩,০০০/প্লেট
    অভিজাত ২০২৪ সালের দাম · সূত্র

চেখে দেখুন

  • সাতকরা গরুর মাংস সিলেট শহরের জিন্দাবাজার আর আম্বরখানার আশপাশের খাবার হোটেল প্লেটপ্রতি প্রায় ২৫০–৪০০ টাকা
  • সিলেটি আখনি সিলেটের জিন্দাবাজারের রেস্তোরাঁ, বিশেষ করে রমজানে ইফতারের সময় প্লেটপ্রতি প্রায় ১৫০–৩০০ টাকা
  • হিদল ভর্তা ও নাগা মরিচ সিলেট শহরের জিন্দাবাজারের ঘরোয়া খাবারের রেস্তোরাঁ; শুকনো হিদল আর নাগা মরিচ কিনতে পাবেন লালবাজারে
  • সিলেটি ঘরোয়া ভাত-ভর্তা সিলেট শহরের জিন্দাবাজারে পানসী আর পাঁচ ভাই রেস্তোরাঁ
  • জারা ও শাশনি লেবু সিলেট শহরের লালবাজারের লেবুর দোকান জারা প্রতিটি প্রায় ২০০–১,০০০ টাকা, শাশনি প্রায় ১৪০–৩৫০ টাকা (২০২২ সালের দাম)
দামগুলো কোথা থেকে

সস্তা হোটেলের হিসাব ঢাকার বাইরের ভাতের হোটেলের দাম (মাছ বা মাংস দিয়ে ভাত ৮০-১৫০ টাকা) থেকে, সিলেট শহরে পর্যটকের ভিড় বলে একটু বাড়িয়ে ধরা। মাঝারি হিসাব তামাবিল সড়কের একটা রেস্তোরাঁ থেকে, ২০২৬ সালে সেখানে মাছ বা মাংসের এক বাটি ২০০-৩০০ টাকা, ভাত-ডাল ফ্রি। দামি হিসাব ২০২৪ সালের হোটেল বুফে থেকে, জনপ্রতি ১,৫০০-১,৬০০ টাকার মতো। দামি নাশতা আর চা-নাশতার হিসাব আন্দাজ।

দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।

জেলার একটুখানি বাড়ি নিয়ে যান

এই জেলার হাতের কাজ বা খাবার পাবেন আমাদের দোকানে।

শীতলপাটি →

কাছের জেলা