
কুষ্টিয়া Kushtia
লালনের গান, রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি আর পদ্মা
দক্ষিণ‑পশ্চিমের সংস্কৃতির কথা উঠলে প্রথমেই আসে কুষ্টিয়ার নাম। ছেঁউড়িয়ায় শুয়ে আছেন সাধক কবি লালন শাহ। তাঁর আখড়ায় বাউলেরা জড়ো হয়ে তাঁর গান করেন। পদ্মার পাড়ে শিলাইদহে বসে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন তাঁর অনেক সেরা লেখা। সঙ্গে আছে তিলের খাজা, শতবর্ষী রেলসেতু আর কুমারখালীর তাঁত।
- লালন শাহের আখড়া
- শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
- তিলের খাজা
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
- কুমারখালীর তাঁত
ঘোরার জায়গা
ঘোরার জায়গা ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার ও আখড়া
Lalon Shah's shrine and akhra, Cheuriaসাধক গায়ক লালনের সমাধি। এখানে বাউলেরা অনেক রাত পর্যন্ত তাঁর গান গেয়ে যান।
ঘোরার জায়গা শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
Shilaidaha Kuthibariপদ্মার কাছে রবীন্দ্রনাথের জমিদারির কুঠিবাড়ি। এখানে বসেই তিনি লিখতেন, পরিবারের জমিজমাও দেখতেন।
ঘোরার জায়গা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
Hardinge Bridgeভেড়ামারায় পদ্মার এপার‑ওপার জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শতবছরের পুরোনো ইস্পাতের রেলসেতু।
ঘোরার জায়গা টেগর লজ, মিলপাড়া
Tagore Lodge, Milparaকুষ্টিয়া শহরের দোতলা একটা বাড়ি। ১৮৯৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পারিবারিক ব্যবসার অফিস হিসেবে এটা বানিয়েছিলেন, এখন ছোট জাদুঘর।
ঘোরার জায়গা ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ
Jhaudia Shahi Mosqueচার কোণে মিনার আর ছাদে গম্বুজওয়ালা মোগল ধাঁচের গ্রামের মসজিদ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে আছে, শুক্রবারে ভিড় জমে।
ঘোরার জায়গা কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর, কুমারখালী
Kangal Harinath Memorial Museum, Kumarkhaliকুমারখালীতে কাঙাল হরিনাথের স্মৃতি জাদুঘর। উনিশ শতকের এই গ্রামীণ সাংবাদিক আর বাউল গানের রচয়িতা এখান থেকেই পত্রিকা ছাপতেন।
ঘোরার জায়গা স্বস্তিপুর শাহী মসজিদ
Swastipur Shahi Mosqueকুষ্টিয়া–ঝিনাইদহ সড়কের পাশে ছোট গম্বুজওয়ালা মসজিদ। ধারণা করা হয়, শায়েস্তা খানের আমলে ১৬৬০ সালের দিকে বানানো।
খাবার
খাবার তিলের খাজা
Tiler khajaতিল আর চিনির মুচমুচে খাজা। প্রতিটা স্টেশন আর ফেরিঘাটে হকারেরা ফেরি করে বেড়ান।
খাবার শনপাপড়ি
Shon papdiচিনি, ময়দা আর ঘিয়ের মিহি সুতোর মতো মিষ্টি, ছোট ছোট চৌকো টুকরায়। মুখে দিলেই গলে যায়।
খাবার কুষ্টিয়ার কুলফি মালাই
Kushtia Kulfi Malaiঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দেওয়া দুধ রাতভর জমিয়ে পরদিন বিকেলে বিক্রি। কুলফি বললে কুষ্টিয়ার নামই আসে।
ঐতিহ্য
কোথায় থাকবেন
সব জেলার হোটেল ভাড়া দেখুন →- সাধারণ হোটেল
- ৳৫০০–২,০০০
- ভালো হোটেল
- ৳২,০০০–৩,৫০০
- অভিজাত রিসোর্ট
- তথ্য নেই
ভিড়ের সময়: ছেঁউড়িয়ায় লালন মেলার সময় (অক্টোবর আর মার্চে) রুম পাওয়া কঠিন হয়।
হোটেলের নাম ও দাম (১টি)
- হোটেল রিভারভিউ / ফেয়ার রেস্ট হাউস / হোটেল গোল্ডস্টার কুষ্টিয়া শহর
দামগুলো কোথা থেকে
ডেইলি স্টার (ডিসেম্বর ২০২৩): কুষ্টিয়ায় পাঁচ তারকা হোটেল নেই; হোটেল রিভারভিউ, ফেয়ার রেস্ট হাউস, গোল্ডস্টার, আজমিরী, পদ্মার মতো আবাসিক হোটেলে রাতে ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা। মাঝারি স্তরটা আনুমানিক।
দাম নেওয়া হয়েছে সংবাদপত্র, পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট আর হোটেলের নিজেদের দেওয়া তথ্য থেকে। বুক করার আগে হোটেলে ফোন করে দামটা জেনে নিন।
কোথায় খাবেন, খরচ কত
এই জেলার খাওয়ার খরচ আশপাশের জেলার দাম দেখে আন্দাজ করা। নিচে কোনো রেস্টুরেন্টের নাম থাকলে, তার দাম আলাদা সূত্র থেকে নেওয়া।
এই জেলায় দিনে জনপ্রতি থাকা‑খাওয়া মিলিয়ে মোটামুটি ৳৬৫০–২,৪৫০
কম দামটা সাধারণ হোটেল আর সাধারণ খাওয়া ধরে, বেশিটা ভালো হোটেল আর ভালো রেস্টুরেন্ট ধরে। দুজন এক রুমে থাকবেন ধরে জনপ্রতি রুম ভাড়ার অর্ধেক যোগ করেছি। যাতায়াত, টিকিট আর অভিজাত হোটেল‑রেস্টুরেন্টের খরচ এর বাইরে।
এই জেলার রেস্টুরেন্টের দাম আমাদের হাতে নেই।
চেখে দেখুন
- তিলের খাজা কুষ্টিয়া শহর আর মজমপুরের দোকানে। ট্রেনেও হকারেরা বিক্রি করেন প্যাকেটপ্রতি আনুমানিক ২০–৫০ টাকা
- শনপাপড়ি কুষ্টিয়া শহরের মিষ্টির কারিগরদের দোকানে প্যাকেটপ্রতি আনুমানিক ৩০–৬০ টাকা
- কুষ্টিয়ার কুলফি মালাই কুষ্টিয়া শহরের কুলফিওয়ালাদের কাছে, বেশির ভাগ বিকেলে
দামগুলো কোথা থেকে
তথ্য কম: কুষ্টিয়ার কোনো হোটেলের দাম সূত্রে পাওয়া যায়নি। খাবারের খরচ ধরা হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমের পাওয়া দাম থেকে: ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে কাছের পিরোজপুরের এক সস্তা হোটেলে মাছ বা মাংস দিয়ে খাওয়া ৮০-৮৫ টাকা, শহরের অন্য হোটেলে অন্তত ১০০-১৫০ টাকা; ২০২৫ সালে যশোরের জলযোগে লুচি ৭ টাকা, ডাল বা সবজি প্লেট ১৫ টাকা। পরে দাম যতটা বেড়েছে, সেটাও ধরা হয়েছে।
দাম সংবাদপত্র আর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব তথ্য থেকে; সময়ের সঙ্গে বদলায়।
এই জেলার হাতের কাজ বা খাবার পাবেন আমাদের দোকানে।




